
নুরুল হুদা,নাফটুডে২৪:
টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ৩ দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উপজেলার হ্নীলা ইউপির লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকা থেকে ২ জন অপহৃত ভিকটিমক উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের ৩ জন সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানা সুত্রে জানা যায়, গত ০২/০৩/২০২৫ইং তারিখ বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার বাসিন্দা সুলতানা বেগম(৩৭) নামক জনৈক মহিলা টেকনাফ মডেল থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন যে, বাদীনির ভাই ১। মোঃ সবুজ প্রকাশ মামুন (৩০), পিতা-আব্দুল হামিদ, মাতা-মৃত পারুল বেগম, সাং-হলিদাবগা, ডাকঘর-ভেলুর পাড়া, থানা-সোনাতলা, জেলা-বগুড়া এর সাথে টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা ইউপি এলাকার আব্দুল আমিন নামক এক ব্যক্তির দীর্ঘ দুই বৎসর যাবত বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে আব্দুল আমিনের দাওয়াতে বাদীনির ভাই মোঃ সবুজ প্রকাশ মামুন(৩০) ও ভাতিজা মেহেদী হাসান টিটু(৩০) গত ২৬/০২/২০২৫ ইং তারিখ আব্দুল আমিনের বাড়িতে বেড়াতে আসার জন্য কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। ভিকটিমদ্বয় একই তারিখ রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা স্টেশনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমদ্বয়কে আব্দুল আমিন তার বাড়িতে না নিয়ে সু-কৌশলে রোহিঙ্গা অপহরণকারী চক্রের হাতে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে অপহরণ চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদ্বয়কে গহীন পাহাড়ের নিয়ে গিয়ে মারধর করার ভিডিও ধারণ করে এবং উক্ত ধারণকৃত ভিডিওটি ভিকটিম মোঃ সবুজ প্রকাশ মামুন (৩০) এর স্ত্রীর মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে ১০,০০,০০০/- টাকা মুক্তিপণ দাবী করে মর্মে বাদীনির এজাহারে প্রকাশ করে।
উক্ত এজাহার প্রাপ্ত হয়ে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-০৪/১৪৬, তাং-০২/০৩/২০২৫ইং, ধারা-৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর জনাব মোঃ শাকিল আহমেদ, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কক্সবাজার মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি গিয়াস উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মাসুম ফরহাদের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক টিম টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা ইউপিস্থ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ০২(দুই) জন ভিকটিম ১। মোঃ সবুজ প্রকাশ মামুন (৩০), ২। মেহেদী হাসান টিটু (৩০) কে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও পুলিশের আভিযানিক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরহণ চক্রের সদস্যরা রাতের অন্ধকারে গহীন পাহাড়ে দিক-বেদিক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং বাদীর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের বিকাশ ও নগদ এ্যাকাউন্টে প্রেরিত মুক্তিপণের ১,২৫,০০০/- টাকার সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা মৌলভী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ চক্রের সক্রিয় ০৩(তিন) জন অপহরণকারী ১। মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫), পিতা-মৃত ইসলাম মিয়া, সাং-মৌলভী বাজার, ২নং ওয়ার্ড, হ্নীলা ইউপি, ২। মোঃ ইউসুফ (৩০), পিতা-মৃত আবুল হোসেন, সাং-নয়াবাজার, ৭নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং ইউপি, ৩। মোঃ ফয়সাল (১৯), পিতা-নুরুল ইসলাম, সাং-মৌলভী বাজার, মুসলিম পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, হ্নীলা ইউপি, সর্ব থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজারদের আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধৃত আসামী ১। মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫) জানায় যে, মুক্তিপনের টাকা আদায়ে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন সময়ে তাহার সহযোগী অপহরণকারী চক্রের সদস্য কর্তৃক মুক্তিপণ বাবদ আদায়কৃত নগদ ৮,০০,০০০/- টাকা বের করে দেয়। পরবর্তীতে ধৃত ২নং আসামী মোঃ ইউসুফ (৩০), ও ৩নং আসামী মোঃ ফয়সাল (১৯)দ্বয়ের ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন প্রাপ্ত হইয়া বিধি মোতাবেক এসআই (নিরস্ত্র) মাসুম ফরহাদ জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করেন। ১নং ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের পরিবার হইতে আদায় করা মুক্তিপণের ১,২০,০০০/- টাকা তাহার ব্যবহৃত বিকাশ পারসোনাল নাম্বারে জমা আছে। ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা আরো স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন যাবত বিকাশ ব্যবসার আড়ালে অপহরণ চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতঃ নিজেদের ভিতর ভাগ-ভাটোয়ারা করে আসছে।
উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং ধৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করণ ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।








